দেশের তরুণ সমাজের ৮৪ শতাংশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি পরিচালনার দক্ষতা নেই। তরুণদের অনেকেই জানেন না, এআই কী এবং কীভাবে কাজ করে। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এআই দক্ষতা থাকা অতি জরুরি। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এ বিষয়ে দক্ষতার বিকল্প নেই।
রাজধানীতে গতকাল বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এআই’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে ছিলেন নেটকম লার্নিংয়ের সিনিয়র ম্যানেজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ইমদাদুল ইসলাম ও লার্নিং কনসালট্যান্ট হাসান মো. জুবায়ের।
কর্মশালায় মার্কিন গবেষণা ও পরামর্শ প্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ ভাগ এইচআর বিভাগ নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সহযোগিতা নিয়ে থাকে।
এছাড়া অ্যামাজনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অটোমেশন ও এআই একজন কর্মীর বার্ষিক ২৪৫ ঘণ্টা বা ৬ সপ্তাহ সময় সাশ্রয় করতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের একটি পাইলট প্রোগ্রামের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ইউনিলিভার নিয়োগসংশ্লিষ্ট কাজে একটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যেটি আবেদনকারীদের (চাকরিপ্রার্থী) ভিডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের মুখের অভিব্যক্তি, শব্দ ও বক্তৃতার ধরন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এতে দেখা গেছে, নিয়োগকারীদের কাজের চাপ ২৫ শতাংশ কমে গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, ‘আগামীর বিশ্ব হবে এআই প্রযুক্তিনির্ভর। দিন দিন প্রযুক্তি আরো উন্নত হবে। আমরা এরই মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে পদার্পণ করেছি। তাই এখন এআই প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই।’
বিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আইএমএফের ২০২৪ সালের সার্ভে অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সূচকে ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩তম। সম্প্রতি দেশের যুবকদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ তরুণের এআই প্রযুক্তি পরিচালনায় উপযুক্ত দক্ষতা নেই।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিসিআই পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও মো. মাফুজুর রহমান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ২৫ জনের হাতে সনদ তুলে দেনে বিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী।